স্কুবা ডাইভিং করতে নেমেই...', ঠিক কী হয়েছিল জুবিন গর্গের, যা বলল ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ

স্কুবা ডাইভিং করতে নেমেই মর্মান্তিক মৃত্যু জুবিন গর্গের



ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ জানালেন শেষ মুহূর্তের ঘটনাবলী

বলিউডের খ্যাতনামা গায়ক এবং অসমের অন্যতম সেরা তারকা শিল্পী জুবিন গর্গ আর নেই। শুক্রবার দুপুরে সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়েই প্রাণ হারালেন এই জনপ্রিয় শিল্পী। একদিন আগেই তিনি ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাঁর আসন্ন কনসার্টে। আর মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই জীবনের ইতি টানলেন ‘ইয়া আলি’-খ্যাত এই তারকা।

ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার আগেই দুর্ঘটনা

৪র্থ নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল-এ অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন জুবিন। ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর উৎসবের মঞ্চে ওঠার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্কুবা ডাইভিং চলাকালীন হঠাৎই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাঁর।



ফেস্টিভ্যাল আয়োজক দলের প্রতিনিধি অনুজ কুমার বরুয়া জানান—
“জুবিন ডাইভিংয়ের মাঝপথেই শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সিপিআর দেওয়া হয় এবং দ্রুত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।”

শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট

মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার, জুবিন তাঁর ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন—
“সবাই আসুন এবং আমাদের সমর্থন করুন। চিয়ার্স!”
এখন সেই পোস্টে ঝরে পড়ছে হাজারো শোকবার্তা। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্তম্ভিত সঙ্গীতপ্রেমীরা।

ভক্তদের শোক

অসম, উত্তর-পূর্ব ভারত ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে গভীর শোক। সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীরা লিখছেন, তাঁকে ছাড়া অসমিয়া ও বলিউড সঙ্গীতজগৎ যেন এক অনন্য কণ্ঠস্বর হারাল।

প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা

তবে গায়কের মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নও উঠছে। তিন বছর আগে গুরুতর মাথার চোটে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন জুবিন। পাশাপাশি মৃগীর সমস্যাও ছিল তাঁর। এই শারীরিক অবস্থায় তিনি কীভাবে স্কুবা ডাইভিংয়ের অনুমতি পেলেন, তা নিয়ে ক্ষোভ ও কৌতূহল প্রকাশ করছেন অনেকেই।

শেষ শব্দ—অমর সুর

‘ইয়া আলি’, ‘মায়া’, ‘মনত ফাগুনে’—অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা জুবিন গর্গের কণ্ঠ ভারতের সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে ছিল এক অনন্য সম্পদ। তাঁর অকাল প্রয়াণে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url





sr7themes.eu.org